লোহিত সাগরে সৌদির তেল ট্যাংকারে হামলার দাবি হুথিদের


৫ আগষ্ট, ২০২৬ (বিবিনিউজ ) : ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বুধবার দাবি করেছে, তারা লোহিত সাগরে ইয়ানবু উপকূলের কাছে একটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ঘোষিত সামুদ্রিক অবরোধ অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে তারা এ হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।

হুথিদের এক সামরিক মুখপাত্র বলেন, ২২ জুলাই অবরোধ শুরুর পর থেকে এটি ছিল লক্ষ্যবস্তু করা অষ্টম সৌদি তেলবাহী জাহাজ।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, ‘উত্তর লোহিত সাগরে ইয়ানবু উপকূলের কাছে ‘ওয়াফা’ নামের সৌদি তেলবাহী জাহাজটিকে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।’

হুথিরা জানিয়েছে, সৌদি আরব তাদের অবরোধের জবাবে দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেলবাহী জাহাজগুলোকে উত্তর লোহিত সাগর দিয়ে পরিচালনা করছে। এ কারণে তারা ওই অঞ্চলে হামলা আরও বাড়াবে।

এই অবরোধের ফলে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এর আগে ইরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধের কারণে সৌদি আরবের অন্য প্রধান সামুদ্রিক রুটও বন্ধ হয়ে যায়।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, হুথিদের অবরোধের কারণে সৌদি আরব তার ‘তেলবাহী জাহাজগুলো উত্তর লোহিত সাগরের দিকে ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে’।

তিনি বলেন, এ কারণে উত্তর লোহিত সাগরে সৌদি তেল জাহাজে হামলা আরও জোরদার করা হবে, যাতে সব প্রবেশপথ বন্ধ করে তাদের চলাচল ঠেকানো যায়।

ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার পর লোহিত সাগরের সৌদি বন্দর ইয়ানবু দেশটির তেল রপ্তানির প্রধান পথ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালী অপরিশোধিত তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়।

লোহিত সাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সরু জলপথটি আবার সুয়েজ খালের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গেও সংযুক্ত।

সামুদ্রিক তথ্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদির সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় আট গুণ বেড়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে সমুদ্রপথে সৌদির তেল রপ্তানি ছিল প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল। জুন মাসে তা বেড়ে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেলে পৌঁছায়।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল ও মে মাসে সৌদি আরবের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা সব অপরিশোধিত তেল ইয়ানবু বন্দর থেকেই পাঠানো হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment